কেউ এ–ও বলতে পারেন, সাধারণ মানুষের ভাবনা নিয়ে তো সমাজের অগ্রসর ব্যক্তি বা ক্ষমতাবানেরাই কথা বলাবলি ও কাজ করে থাকেন।
ঠিক! তবে কিছু ‘কিন্তু’ থাকে। গণতান্ত্রিক সমাজে ক্ষমতা, অর্থ ও প্রভাব বলয়ের বাইরে থাকা নিম্নবর্গের মানুষের বক্তব্যও শুনতে হয় এবং তাদের যোগ্য নাগরিক করে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রকে ন্যায়বিচারের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অংশীজনের বাইরে থাকা কিন্তু বিপ্লবে অংশ নেওয়া মানুষেরা নিশ্চয়ই আশা করে রাষ্ট্র এবং আগামী সরকারগুলো বিগত শাসনের সংস্কৃতিকে ঝেড়ে–মুছে –ধুয়ে ফেলে দেবে।
নতুন এক বাংলাদেশ হবে তাদের মালিকানার, ন্যায়বিচারের ও সমান অধিকারের। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হবেন ব্যবস্থাপক ও খাদেম; পতিত প্রভুদের প্রতিমূর্তি নন। কোনো বিচ্যুতি হলে হবে প্রতিবাদ ও সংশোধন।
প্রশ্ন করতে পারেন, প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্র এবং চলমান ও পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম সফল করতে এত মানুষের জটিল ভাবনা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কী দরকার?
কারণ, যাঁদের দ্বারা এবং যাঁদের জন্য এই বিপ্লব, সেই জনতাকে বাদ দিয়ে বিপ্লব অসম্পূর্ণ, তার উদ্দেশ্য সাধন অসম্ভব এবং উপজাত রাজনৈতিক ব্যবস্থা অগ্রহণযোগ্য।
ঘোষণাপত্র অতি সুশীল হলেও গণমানুষের বোধগম্য হবে না; সে ক্ষেত্রে তাদের সমর্থনের প্রশ্নটি হবে অবান্তর। বাংলাদেশের ভাবি গণতন্ত্রে জনগণের অবস্থান কী হবে সে ইস্যুতে অংশীজনের অবস্থান জানা-বোঝা শুরু হতে পারে ঘোষণাপত্র থেকেই।