Homeআইন আদালতরৌমারীতে গুদাম ভেঙে সার লুট

চার জেলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
রৌমারীতে গুদাম ভেঙে সার লুট

রোপা আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক সার না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন উত্তরের চার জেলার কৃষকেরা। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা এক ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার লুট করে নিয়ে গেছেন। এছাড়া সার সংকট ও সিন্ডিকেটের প্রতিবাদে রাজশাহী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ এবং কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার সকালে রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় বিসিআইসি সার ডিলার ‘মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ’-এর বিক্রয়কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন শত শত কৃষক। একপর্যায়ে তাঁরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ইউরিয়া সার নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

ডিলার মো. মতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসনের সহায়তা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। এই সুযোগে কৃষকেরা গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান।”

তবে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া দাবি করেন, উপজেলায় কোনো সার সংকট নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে (ওএমএস) সার বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রৌমারী ইউএনও মো. মাহবুবুল হাসান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এদিকে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে গতকাল ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের বানেশ্বর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক মহাসড়কে অবস্থান নিলে প্রায় ৪০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বানেশ্বর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ডিলাররা সিন্ডিকেট করে বাইরে বেশি দামে সার বিক্রি করছে, আর আমাদের সার না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।” যদিও সংশ্লিষ্ট ডিলার ওছমান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার দাবি করেন। পরে পুঠিয়া ইউএনও লিয়াকত সালমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।

একই দাবিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়ায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। পরে লালমনিরহাট সদর ইউএনও মনোনীতা দাস ও কৃষি কর্মকর্তারা গিয়ে দ্রুত সার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে আধঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবিতে সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকেরা। খবর পেয়ে ইউএনও অমৃত দেব নাথসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ইউএনও জানান, খোলাবাজারে সার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।

ডিলারদের দাবি অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। তবে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সারের ঘাটতির বিষয়টি নাকচ করে কঠোর মনিটরিংয়ের আশ্বাস দিয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য