ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে ও বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
বুধবার (১ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে সরাইল উপজেলায় ও সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা দুটি ঘটে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ও বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামের ইমামবাড়ি এলাকায় খুরশীদ মিয়ার ছেলে শরীফের জমি নিয়ে একই এলাকার মৃত মতর মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়ার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকালে দু’পক্ষের ৪০ থেকে ৫০ জন লোক দা, লাঠি, ফলা ও টেঁটা-বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়৷ এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়।
আহতরা হলেন— আংগুর মিয়া (৪২), কাপ্তান মিয়া (২৫),পারুল আক্তার (৩০), জুলহাস ২৫), জাহাঙ্গীর মিয়া (২৫), দুলাল মিয়া (২৫) ও সজিব মিয়া (১৮)। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আজ বিকেলে পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অপরদিকে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাঞ্ছারামপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা শান্তিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন— আলমগীর হোসেন (৩৬), সোলেমান মিয়া (৩৯), সোহরাব হোসেন (৪৫), রাসেল মিয়া (৩২), রফিক মিয়া (৩৫), দুলাল মিয়া (৩৭), সনি মিয়া (২৭), রাসেল মিয়া (৩১), সামীর মিয়া (৩৬), ইসমাইল হোসেন (৪৪), ইমরান হোসেন (২৯), হক মিয়া (৪৩), মাসুদ মিয়া (৪০), শাহিন মিয়া (৩৯), লালু মিয়া (৪৩), রাব্বি মিয়া (২৬), হোসেন মিয়া (৪৫), শাহপরান (২৮), শাহজালাল (৩৪) ও শাহিন মিয়া (৪৫)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সফু সরকারের বাড়ির সঙ্গে আজগর আলী সরকার বাড়ির বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে আজ সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র— রামদা, বল্লম, টেঁটা, ছুরি ও লাটি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
সফু সরকার বাড়ির মতিউর রহমান সরকার জানান, দুই মাস ধরে আজগর আলী সরকার বাড়ির মো. সুলতান মাস্টারের পক্ষের লোকজন রাতের বেলা আমাদের বাড়িঘর ও লোকজনের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে আসতেছে। বুধবার সকালে হঠাৎ সুলতান মাস্টারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা নিজেদের রক্ষা করতে তাদেরকে ধাওয়া করি। এ সময় আমাদের লোকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।
আজগর আলী সরকার বাড়ির ইসমাইল হোসেন জানান, মাস দেড়েক আগে মতিউর রহমান ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছিল। সে সময় আমাদের পক্ষের লোকজন আহত হয়েছিল। তারপর থেকে আমরা গ্রামে যেতে
পারছি না। গত মঙ্গলবার আমরা গ্রামের বাড়িতে যাই। এতে পূর্ববিরোধের জেরে আজ সকালে মতির লোকজন আমাদের ওপর হামলাসহ বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। আমাদের পক্ষের অনেকেই টেঁটাবিদ্ধ হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি জানান, শান্তিপুর গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। আহতরা নরসিংদীতে চিকিৎসা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেও থানায় অভিযোগ দেয়নি।