যশোর শহরের নীলগঞ্জের আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংলগ্ন মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন চলা বিরোধ গতকাল সহিংস রূপ ধারণ করে। গতকাল জামায়াত এমপির মেয়ে একজন মাদ্রসা শিক্ষককে মারধর এবং একজন অভিভাবকের মাথা ফাটিয়ে দিলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁরা এমপির বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ঘটনার বিচার চান। গতকাল যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের নীলগঞ্জের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে কয়েক শ মানুষ। একপর্যায়ে তাঁরা যশোর-নড়াইল সড়ক অবরোধ করেন। এর আগে জামায়াত নেতার বাড়িতে ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা বিক্ষোভ সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি কবির হোসাইন বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল স্বয়ং এসে মাদ্রাসার হুজুরদের “মাদ্রাসা কেন খোলা হয়েছে”, “ওস্তাদ কেন এসেছে” এসব বলতে থাকেন। একপর্যায়ে ওনার মেয়ে একটি তালা হাতে নিয়ে হুজুরকে মারে ও এক অভিভাবকের মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্যের মেয়েকে মাদকাসক্ত বলেও দাবি করেন।’ তিরি আরও বলেন, ‘এর আগেও সংসদ সদস্যের মেয়ে অনন্যা লাঠি নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের মারতে যায়। তারা মাদ্রাসার গলিতে খেলাধুলা করত। এ সময় লাঠি হাতে তাদের তাড়া করে। ভয়ে ছাত্ররা এদিক-সেদিক পালিয়ে যায়। ভয়ে কারও কারও জ্বরও আসে। সোমবার পুলিশের মাধ্যমে সে বিষয়টির সমাধান করা হয়।’
যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি বলেছেন, তাঁর মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা দীর্ঘদিন মানসিক রোগে ভুগছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। মাঝে মাঝেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমপির পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনন্যার চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে যশোর-৩ আসনে বিএনপির এমপি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানাকে ঘটনাস্থলে পাঠান। আনসারুল হক রানা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে আশ্বস্ত করেন যে প্রতিমন্ত্রী পুরো বিষয়টি জেনেছেন। তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির সুষ্ঠু মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘সংসদ সদস্যের বাড়ির সামনে বিক্ষোভের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারসহ র্যাব সদস্যরাও উপস্থিত হন। পরে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দুপুরের পর পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।’ বিষয়টি তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


