সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি ব্যক্তিদের প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে ‘খসড়া প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বহিরাগতদের পদায়ন করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর এই পদগুলোর জন্য ধরা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো বেতন। মাসিক সম্মানী রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা। এতে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৫০ কোটি টাকার নিচের প্রকল্পে মাসিক সম্মানী ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা। বড় প্রকল্পে এই অঙ্ক হবে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক অনুমোদনের ৪৫ দিনের মধ্যে ১০ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এ ছাড়া পিডিদের কাজের পারফরম্যান্স প্রতি ছয় মাস পরপর মূল্যায়ন করা হবে। ব্যর্থ হলে চুক্তি বাতিলের সুযোগ থাকবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যেই বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি ও অর্থব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল। বেসরকারি খাত থেকে আসা ব্যক্তিরা এই নিয়মকানুনের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। ফলে তারা দায়িত্ব পেলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক তদবির ও স্বজনপ্রীতির ঝুঁকিও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত নিয়োগ ও মোটা অঙ্কের সম্মানী নির্ধারণের ফলে এটি পছন্দের মানুষদের পুনর্বাসনের সুযোগে পরিণত হতে পারে। সরকারি চাকরিতে জবাবদিহির যে কাঠামো থাকে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে তা ধরে রাখা কঠিন হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক একজন সচিব বলেন, সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সরকারি ক্রয়বিধি না বুঝে কাজ করা কঠিন। বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আসার বদলে উল্টো জটিলতা ও ধীরগতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে হলে কেন অনিয়ম ও ধীরগতি হচ্ছে, সেই মূল জায়গায় নজর দেওয়া দরকার। তা না করে কেবল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাইরে থেকে লোক বসালে অনিয়ম বন্ধ হবে না। বরং এতে সরকারি অর্থ লুটের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।


