Homeলাইফস্টাইলকম খরচে ভ্রমণ করা যাবে যেসব দেশে

কম খরচে ভ্রমণ করা যাবে যেসব দেশে


ভ্রমণের কথা এলে বেশির ভাগ সময় বাজেটের চিন্তায় আমরা পছন্দের রোমাঞ্চকর ট্রিপের পরিকল্পনা করতে পারি না। তবে একটু খোঁজখবর করলেই দেখা যাবে, বেশ কম টাকায় বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে এমন অনেক গন্তব্য আছে, যেগুলোতে আপনার প্রত্যাশার চেয়ে কম টাকায় ভ্রমণ করা সম্ভব। কোন কোন দেশে কম টাকায় ভ্রমণ সম্ভব, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সেই গবেষণায় ১৩১টি ভিন্ন গন্তব্যের দৈনিক গড় ব্যয় বিশ্লেষণের পর তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এ বছরের জন্য কম টাকায় ভ্রমণ করা যায় তেমন ১৫টি দেশের তালিকা।

মূল্য তুলনা সাইট ‘হ্যালোসেফ’ সম্প্রতি গবেষণাটি করেছে। গবেষণায় তারা ১৩১টি দেশে একজন পর্যটকের থাকা, খাওয়া, যাতায়াতসহ গড় দৈনিক খরচ বিশ্লেষণ করেছে। তবে হ্যাঁ, এই গবেষণায় দেশগুলোতে পৌঁছানোর খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই।

তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বাজেটবান্ধব দেশ লাওস। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র স্থলবেষ্টিত দেশটি মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যখানে অবস্থিত। গবেষণা অনুযায়ী, এখানে একজন পর্যটকের দৈনিক ব্যয় হতে পারে মাত্র ১২.৩০ পাউন্ড বা প্রায় ১৪.৬০ ইউরো বা ১৬ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার টাকা। গবেষণাটিতে ‘হতে পারে’ শব্দবন্ধের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে আছে কাজাখস্তান। মধ্য এশিয়ার দেশটিতে গড় দৈনিক খরচ হতে পারে ১৫.১০ পাউন্ড বা প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে আছে রুয়ান্ডা। আফ্রিকার এই দেশটিতে ভ্রমণে দৈনিক ব্যয় হতে পারে ১৬ পাউন্ড বা আড়াই হাজার টাকার কিছু বেশি। তালিকায় আরও আছে জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া। সম্প্রতি চলতি বছরের সেরা অ্যাডভেঞ্চার ডেস্টিনেশন হিসেবে আর্মেনিয়া বিভিন্ন তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

এ বছর ভ্রমণের জন্য বিশ্বের ১৫টি সস্তা দেশের তালিকা—

  • লাওস
  • কাজাখস্তান
  • রুয়ান্ডা
  • ঘানা
  • মঙ্গোলিয়া
  • আর্মেনিয়া
  • বুরকিনা ফাসো
  • জর্জিয়া
  • মালি
  • মিয়ানমার
  • কিউবা
  • মলদোভা
  • ভারত
  • মালাউই
  • নেপাল

এই গন্তব্যগুলোতে কম খরচে উপভোগ করে অর্জন করা যাবে অনবদ্য অভিজ্ঞতা। তাই বাজেট নিয়ে চিন্তা না করে পরিকল্পনা করুন আপনার পরবর্তী ভ্রমণ!

লুয়াং-প্রাবাং-শহর-ছবি-UNESCO

লুয়াং প্রাবাং, লাওস

লাওসের সাবেক রাজধানী লুয়াং প্রাবাংকে বলা হয় মায়াবী শহর। ৩০টির বেশি প্রাচীন বৌদ্ধমন্দির, ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী লাও স্থাপত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সমন্বয় এই শহর। মেকং ও নাম খান নদীর সঙ্গমস্থলে এটি অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত এই শহরের সুরক্ষিত এলাকা ৫৮টি গ্রামের মধ্যে ৩৩টি নিয়ে গঠিত।

কেন যাবেন লুয়াং প্রাবাং

সুন্দর বৌদ্ধমন্দির: ওয়াট জিয়েনগ থং, ওয়াট মাইয়ের মতো ঐতিহাসিক মন্দিরে লাওসের সংস্কৃতির গভীরতার দেখা পাবেন এখানে।

আলমসগিভিং (তাক বাট): ভোরবেলা সন্ন্যাসীদের খাবার দানের ঐতিহ্য দেখা যাবে এখানে। এটি লুয়াং প্রাবাং ভ্রমণের অনন্য এক অভিজ্ঞতা দেবে।

কুয়াং সি জলপ্রপাত: নীলাভ পানির ধাপে ধাপে পড়া জলপ্রপাত এবং প্রাকৃতিক সুইমিংপুল প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।

রাতের বাজার: হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার এবং স্মৃতিসৌধ কেনার জন্য আদর্শ জায়গা।

মাউন্ট ফৌসি: শহরের প্যানোরামিক দৃশ্য দেখতে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তে এই পাহাড়ে ওঠা যায়।

দৈনিক ব্যয়

লুয়াং প্রাবাং বাজেট-ফ্রেন্ডলি গন্তব্য। গবেষণা অনুযায়ী, থাকা, খাওয়া, স্থানীয় যাতায়াতসহ এখানে দৈনিক খরচ ১৬ ডলারের মধ্যে রাখা সম্ভব।

লুয়াং প্রাবাং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিশ্রণ, যা ভ্রমণকারীদের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেবে।

এ ছাড়া স্থানীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে অর ল্যাম (ও-লাম, লুয়াং প্রাবাং স্থানীয়দের প্রিয় খাবার), লুয়াং প্রাবাং সসেজ, মোকপা (স্টিমড ফিশ), মেকং নদীর শেওলা দিয়ে তৈরি কাইপেন।

সূত্র: টাইম আউট ডট কম





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত