২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে নির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক করেছিল বিএনপি। ওই বৈঠকের ৭ বছর পর আবারও বর্ধিত সভা হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)। এদিন সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় অন্তত চার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হতে পারেন বলে ধারণা করছে দলীয় সূত্রগুলো।
দলের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, বর্ধিত সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ২০১৮ সালে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী, সব সাংগঠনিক জেলা, উপজেলার সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন সময়ে গঠিত উপ-কমিটিগুলোর সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এমন ব্যক্তিরাও আমন্ত্রিত হয়েছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সদস্য এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন।’
তিনি জানান, প্রথম সেশনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখবেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভা পরিচালনা করবেন।
বুধবার বিকালে বর্ধিত সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এসময় কমিটির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় নেতারা জানান, নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা হলেও এবার তৃণমূলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, আগামী নির্বাচন, সম্ভাব্য দেশের পরিস্থিতি, করণীয়, কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলের মতামত শুনতে আগ্রহী বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনি বৈতরণী পার করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান।
প্রভাবশালী একজন দায়িত্বশীলের ভাষ্য— অনেক দূর থেকে দল পরিচালনা করার কারণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাতে পারেন। বিগত সরকারের পতনের পর থেকে যেসব নেতাকর্মী বহিষ্কার হয়েছেন, তাদের প্রতিও বার্তা দেবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত ওই সভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও এবার সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে না বিএনপিকে।