Homeরাজনীতিনতুন দলের আত্মপ্রকাশ আজ নাম জাতীয় নাগরিক পার্টি

নতুন দলের আত্মপ্রকাশ আজ নাম জাতীয় নাগরিক পার্টি


জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতৃত্বের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ ঘটছে আজ শুক্রবার। এ জন্য আজ বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকের সমাবেশ ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দলের ১৫১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। দলের আহ্বায়ক হবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগকারী নাহিদ ইসলাম। সদস্যসচিব হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। শীর্ষ আরও ছয়টি পদের নেতাদের নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে। শীর্ষ এই আটজনের নাম আজ ঘোষণা করা হতে পারে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির লক্ষ্যে ছাত্রনেতৃত্ব নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেই দলের আজ আত্মপ্রকাশ ঘটছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির সূত্র বলেছে, এই দল গঠনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক সভা করেন। এই সভায় যোগ দেন নাহিদ ইসলামও। সভায় দলের নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ এবং দলের সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেনকে চূড়ান্ত করা হয়।

দলের নেতারা জানিয়েছেন, ‘নাগরিক’ শব্দটি সারা দেশে তৃণমূল পর্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করায় দল গঠনের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ সদস্য দলের নামে এই শব্দটি চেয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি নামের পক্ষেই মত দিয়েছেন অধিকাংশ সদস্য। দলের নাম সংক্ষেপে ‘এনসিপি’ এবং ইংরেজিতে নাম হবে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’। তবে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক নাগরিক শক্তি’ নামটি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

নেতারা জানিয়েছেন, ১৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মধ্য দিয়ে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তবে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শুধু দলের শীর্ষ আট নেতার নাম ঘোষণা হতে পারে। দলে নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটাতে শীর্ষ পদগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ৮টি শীর্ষ পদ চূড়ান্ত করেছেন তাঁরা। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ছাড়াও দলটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব, মুখ্য সমন্বয়ক, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও দুজন মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ও সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান সমন্বয়কারী, সামান্তা শারমিনকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, হাসনাত আবদুল্লাহকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, আবদুল হান্নান মাসুদকে যুগ্ম সমন্বয়ক ও সালেহ উদ্দিন সিফাতকে দপ্তর সম্পাদক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই পদে আলোচনায় রয়েছেন তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা, মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম।

আখতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নতুন দলের আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সারা দেশ থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা আসছেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। দলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছি। ১০০ থেকে ১৫০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’ দেশের সব সম্প্রদায়, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই একটি আহ্বায়ক কমিটির মধ্য দিয়ে তাঁদের ঘোষণা পরিপক্ব করতে চান।

নতুন দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এগুলো আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হবে। গঠনতন্ত্র এবং ঘোষণাপত্র নিয়ে আরও কাজ করা হবে। পরে দলের পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হবে। আখতার হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের বিষয়ে একটি টিম কাজ করছে।

জানা গেছে, নতুন দলের ঘোষণাপত্রে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক মুহূর্ত—১৯৪৭ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জাতিগত আকাঙ্ক্ষাসহ নানান বিষয় উল্লেখ থাকবে।

ছাত্রনেতৃত্ব বলছেন, দল গঠনের ক্ষেত্রে তাঁরা বিভিন্ন দেশের বৃহৎ এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে যেসব দেশে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারের পতন হয়েছে, সেসব দেশের দলগুলোর ইতিহাস, গঠনতন্ত্র, কর্মপদ্ধতি, কার্যক্রম ও কর্মসূচি পর্যালোচনা করে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তাঁরা।

দলের নেতারা জানান, নতুন রাজনৈতিক দল জনদাবিতে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা তৈরির চেষ্টা করবে। সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের বিরুদ্ধে গেলে তা নিয়ে প্রতিবাদ করবে, কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনগণ সেবাবঞ্চিত হচ্ছে, তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিকভাবে মাঠে সক্রিয় থাকবে দলটি।

আসন্ন নির্বাচন বিষয়েও ভাবছেন দলের শীর্ষ নেতারা। দলের নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি দ্রুত পূরণে আশাবাদী তাঁরা। নেতারা বলেছেন, দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও আলোচনা চলছে। উদীয়মান সূর্য, কলম, শাপলা, ইলিশ রয়েছে আলোচনায়। তবে ‘ইলিশ’ এগিয়ে আছে। নতুন দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের আসনে সংগঠিত করা, সভা-সমাবেশ, সহযোগিতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।

জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক সূত্র বলছে, আখতার হোসেন রংপুর-৪, সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪, আব্দুল হান্নান মাসুদ নোয়াখালী-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া নাগরিক কমিটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মুহাম্মদ হাসান আলী চট্টগ্রামে, মো. আব্দুল আহাদ দিনাজপুরে, আশরাফ উদ্দিন মাহদি ও মো. আতাউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, অনিক রায় সুনামগঞ্জে, মনিরা শারমিন নওগাঁয়, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ সিরাজগঞ্জে, আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রামে, আবদুল্লাহ আল আমিন নারায়ণগঞ্জে, সারোয়ার তুষার নরসিংদীতে, মশিউর রহমান ঝালকাঠিতে, মো. নিজাম উদ্দিন নোয়াখালীতে, মেসবাহ কামাল মুন্না খুলনায়, প্রীতম দাশ হবিগঞ্জে, আবু সাঈদ লিওন নীলফামারীতে এবং সাদিয়া ফারজানা দীনা রংপুরে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ বিষয়ে নতুন দলের সদস্যসচিব পদে চূড়ান্ত হওয়া আখতার হোসেন বলেন, ‘আত্মপ্রকাশের পর যত দ্রুত সম্ভব সারা দেশে সংগঠনের বিস্তার ঘটাতে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের শর্তাবলি পূরণে আমরা কাজ করব। জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা বাংলাদেশে একটি নতুন সংবিধান প্রত্যাশা করি। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে ধরনের নির্বাচন হবে, সেখানে আমরা সারা দেশ থেকে আমাদের প্রার্থীদের খুঁজে নেব।’





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত