তুই তো চিঠিতে লিখেছিলি, ‘একদিন তো মরতেই হবেই। তাই মৃত্যুর ভয় কোরে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যুও অধিক শ্রেয়। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয়, সেই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো।’
তোর জন্য আমার খুব গর্ব হয়। আমরা যা করতে সাহস পাইনি, তুই তা–ই করেছিস। যেখানে আছিস, সেখানে শুধু তুই ভালো থাকিস। হয়তো আবার একদিন আমাদের দেখা হবে, আবার আমরা ভালো বন্ধু হব।
আমাকে শহীদের মা হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে শুনি ‘আনাস, সাঈদ, মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’। যুদ্ধটা এবার শেষ হোক।
আনাস, তোকে ছাড়া নতুন বছর শুরু হচ্ছে। যে বছরে আমার ছেলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, সে বছর নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই, পরিকল্পনা নেই। তারপরও তুই ও তোদের মতো যে সন্তানদের রক্তে নতুন বাংলাদেশ পেলাম, সে বাংলাদেশটা ভালো থাকুক, তা–ই চাই।
অনুলিখন: মানসুরা হোসাইন