রক্তা গ্রামে একটি পুরোনো মসজিদ আছে, যার বয়স শত বছরের ওপরে—এমন তথ্য পেয়ে ১৮ মার্চ সেখানে যাওয়া। মৌলভীবাজারের রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়ক থেকে পশ্চিমে কাউয়াদিঘি হাওরের দিকে একটি গ্রামীণ পাকা সড়ক গেছে, সেই সড়ক ধরেই রক্তা গ্রামে পৌঁছা গেল। সড়কের দুই পাশে ধানখেত, কাঁচাপাকা নতুন-পুরোনো বাড়ি। পাকা সড়ক যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ হাটের মতো পসরা নিয়ে বসেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। ধারণা করা যায়, ভ্রাম্যমাণের মতো মনে হলেও তাঁরা আসলে নিয়মিতই এখানে পণ্য সাজিয়ে বসেন। বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি শাকসবজি, ফল সাজানো আছে। সেখান থেকে উত্তর দিকে মসজিদ পর্যন্ত কয়েক শ ফুট ইট বিছানো সড়ক, সেই সড়কটি এখন এবড়োখেবড়ো, গর্তে পূর্ণ।
এখানে একটি মসজিদ আছে, এটা যে কারও চোখে পড়বে। কিন্তু আগে থেকে না জানা থাকলে এই নতুন দালানের আড়ালে কালের যাত্রায় ১৫০ বছর পার করা একটি মসজিদ আছে, তা কেউ অনুমান করতে পারবেন না। নতুন ভবনটিই আগে চোখে পড়ে। পুরোনো মসজিদকে যুক্ত করেই পূর্ব দিকে নতুন দালান নির্মাণ করা হয়েছে। চুন-সুরকিতে তৈরি তিন গম্বুজ মসজিদটিকে আপাতত সাদামাটা মনে হলেও মসজিদ তৈরিতে প্রাচীন স্থাপত্যকলা অনুসরণ করা হয়েছে। প্রায় ২০ ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা চারদিক। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুটি জানালা আছে। মসজিদের ছাদে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তিনটি করে স্তম্ভ। আছে তিনটি গম্বুজ। এই গম্বুজ তিনটি মসজিদের পরিচিতি তৈরি করেছে। পরিচিতজন এটাকে ‘তিন গম্বুজ মসজিদ’ নামেই চিনে থাকেন। মসজিদের পূর্ব দিকে পাকা ঘাটওয়ালা একটি পুকুর আছে। মসজিদটির উত্তর পাশেই আছে রক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।