বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যাসহ পাঁচটি মামলার আসামি গোলাম মোস্তফা (৫৮) নামের একজনকে গত ১২ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা করে গোলাম মোস্তফার সহযোগী একদল দুর্বৃত্ত। এসময় কয়েকজন পুলিশ আহতও হন।
এদিকে মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচারের পর চাপে পড়ে পুলিশ। পরে ওদিনই ১২ মার্চ দিবাগত রাত দেড়টায় সরকারি কাজে বাঁধা ও সরকারি কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ওসমান মাসুম বাদী হয়ে মোহাম্মদপু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ওয়ারেন্ট তামিল ডিউটি করছিল। ১২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সূত্রে জানতে পারে মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলার এজাহার-নামীয় ৩৯ নম্বর আসামি লালমাটিয়া এলাকার অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে অবস্থান করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তাদের নির্দেশে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ স্কুলের সামনে থেকে আসামি গোলাম মোস্তফাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই সময়ে আসামির ডাক চিৎকারে মুহুর্তের মধ্যেই স্কুলটির নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তারা পুলিশকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ‘মব’ তৈরি করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেন। পাশাপাশি, পুলিশকে টানা হেঁচড়া করে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। আসামিদের মারপিটের সময়ে গোলাম মোস্তফা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আসামিদের মারপিটে পুলিশের এক সদস্য আহত হলে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে আসামি গোলাম মোস্তফা পলাতক রয়েছে। তাকে খুজে পাচ্ছে না পুলিশ। ফলে পুলিশের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেয় অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। গোলাম মোস্তফাকে একই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ঘটনার সময় মোবাইলে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার সামনে ছিল অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনালের পোশাকধারী নিরাপত্তা-প্রহরীরা। এসময় নিরাপত্তা-প্রহরীদের সঙ্গে আরও অন্তত ১০ জন অংশ নেন। তারা ছিলেন বহিরাগত ও স্কুলটির স্টাফ। অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঘটে ওই হামলার ঘটনা।
সূত্র বলছে, গোলাম মোস্তফা অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনালের তিনজন মালিকের একজন। তাকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে শিক্ষক এবং স্টাফদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের দুই তলা থেকে দ্রুত নেমে আসেন সোহাগের সহযোগীরা। এসময় অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের বাইরে যখন হামলার ঘটনা ঘটে তখন স্কুলের নিচ তলার সিসিটিভি ক্যামেরায় সব ভিডিও চিত্র ধারণ করা আছে। কিন্তু পুলিশ এখনও সেই ভিডিও ফুটেজ নিতে পারেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত মোস্তফা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানার একটি হত্যা মামলায় এজহারভুক্ত সোহাগকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে জামিন পান তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পলাতক গোলাম মোস্তার বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানা, রামপুরা থানা, বাড্ডা থানা, মোহাম্মদপুর থানা, চকবাজার থানা ও পল্লবী থানায় একাধিক হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে।
এপ্রসঙ্গে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, পলাতক গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের অন্যান্য সব ইউনিটও চেষ্টা করছে।