জনগণের একটি বড় অংশ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে অসন্তুষ্ট। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। দেশের ১০ হাজার ৬৯৬ জন ভোটারের ওপর চালানো এক জরিপ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ইনোভিশন কনসাল্টিং, ব্রেইন এবং ভয়েজ ফর রিফরম নামে সংস্থাগুলোর যৌথভাবে পরিচালিত ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা: ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৫’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম অনলাইন ও মাঠ পর্যায়ের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বর্তমান জরিপটি করা হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত। শনিবার (৮ মার্চ) এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ সূচকগুলো শীর্ষে রয়েছে, তুলনামূলকভাবে সংস্কার কর্মসূচিতে ভোটারদের আগ্রহ কম। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে সবার উপরে আছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ (৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ)। এরপর আছে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি (৪৫ দশমিক ২ শতাংশ) , কর্মসংস্থান বৃদ্ধি (২৯ দশমিক ১ শতাংশ), সরকারি পরিষেবায় দুর্নীতি হ্রাস (২১ দশমিক ৮ শতাংশ) নির্বাচনবান্ধব পরিবেশ (২০ দশমিক ২ শতাংশ) আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংস্কার (৯ দশমিক ৩ শতাংশ), রাজনৈতিক সংস্কার (৯ দশমিক ৩ শতাংশ), সাংবিধানিক সংস্কার (৫ দশমিক ৩ শতাংশ), মন্তব্য করতে পারেননি ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কতটা সফল– এমন প্রশ্নের উত্তরে ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোটাররা বলেছেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বলেছেন আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে, ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বলেছেন সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার বলেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, ৪০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বলেছেন আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে, ১ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ বলেছেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, ২৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বলেছেন আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে।
নির্বাচন সহায়ক পরিবেশের ক্ষেত্রে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ মনে করেন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এছাড়া অন্যান্য যেসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার সংখ্যা বেশি তার মধ্যে আছে রাজনৈতিক সংস্কার, সাংবিধানিক সংস্কার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংস্কার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত পরিস্থিতি, জুলাই বিপ্লবের সময় হত্যার বিচার।