গোল করার পর শূন্যে লাফিয়ে দুই হাত উপরে উঠিয়ে একসঙ্গে করে মুখে ‘সিউ’ শব্দ করে উদযাপনের প্রবর্তক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অনেকেই তার এই গোল উদযাপন অনুকরণ করেন। কেউ তার এই ভঙ্গিতে গোল করার আনন্দে ভাসছেন, দেখে ভালোই লাগে পর্তুগিজ উইঙ্গারের। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে রাসমুস হয়লুন্দের ‘সিউ’ উদযাপন হয়তো তার হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে। ডেনমার্ক স্ট্রাইকার বেঞ্চ থেকে উঠে এসে একমাত্র গোল করেছেন, যাতে রোনালদোর পর্তুগাল হেরে গেছে।
পার্কেন স্টেডিয়ামে নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পর্তুগিজদের ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক।
এই মৌসুমে ম্যানইউর হয়ে গোল করতে ঘাম ছোটা হয়লুন্দ ৭৮তম মিনিটে গোল করেন। তাতে প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার লজ্জা কাটাতে পেরেছেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন।
ডেনমার্ক ফরোয়ার্ড মিকা বিয়েরেথ তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা দারুণ করতে পারতেন। তৃতীয় মিনিটে তার গোলমুখে নেওয়া শট ক্লিয়ার করে কর্নার বানান পর্তুগাল কিপার ডিওগো কস্তা।
পর্তুগালের প্রথম কোনও শট লক্ষ্যে ছিল আট মিনিটে। পেদ্রোর লম্বা শট ডেনিস কিপার ক্যাস্পার শুমেইখেল শক্ত হাতে থামিয়ে কর্নার বানান।
দুই দলই আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। প্লেমেকার এরিকসেন সুবর্ণ সুযোগ পান। পর্তুগালের বক্সে তাদের খেলোয়াড় রেনাতো ভেইগার হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। ২৩তম মিনিটে ৩৩ বছর বয়সীর বাঁ পায়ের শট কস্তা ঠেকিয়ে দেন। ডানপাশে ঝাঁপিয়ে বল ফিরিয়ে দেন তিনি।
৩৬তম মিনিটে কস্তা আবারও বিয়েরেথের অভিষেক গোলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান দারুণ আরেকটি সেভে। ডিওগো ডালোট বিরতির আগেই তার কিপারের উদ্ধারকর্তারূপে হাজির হন। এরিকসেনের শট লাইন ক্রস করার আগে ব্লক করেন তিনি।
দারুণ পারফরম্যান্স করলেও শেষ দিকে ডেনমার্কের গোলে তেমন কিছু করার ছিল না কস্তার। এরিকসেন পেনাল্টি বক্সের ডানদিকে আন্দ্রেস স্কোভ ওলসেনকে বল বাড়ান। তার অ্যাসিস্টে হয়লুন্দ ডান পায়ের শটে জাল কাঁপান। তারপর সেই উদযাপন, রোনালদো শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন।
আগামী রবিবার লিসবনে দ্বিতীয় লেগের খেলা। পিছিয়ে থেকে ডেনিসদের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। নিশ্চিতভাবে রোনালদো জ্বলে ওঠার অপেক্ষায়। বিজয়ী দল সেমিফাইনালে ইতালি কিংবা জার্মানির মুখোমুখি হবেন।