১৫ জুলাই সব ওলট–পালট হয়ে গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ফোনে ২৫টির মতো মিসড কল। নিশ্চিত হলাম, কাল রাতে খুব বড় কিছু ঘটেছে। ফেসবুকে ঢুকেই বুঝতে পারি, রাতে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে, আমি কে/ রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দিয়েছে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে বুঝলাম, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতে নেমে এসেছিল রাস্তায়; এখানে মেয়েদের হলগুলো ছিল অগ্রগামী।
ছাত্রছাত্রীদের স্লোগানের মধ্যকার শ্লেষ ছাত্রলীগ যে ইচ্ছা করেই বুঝতে চাইবে না, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না আমার। প্রসঙ্গত বলা দরকার, ওই রাতেই সমন্বয়কদের তরফে স্লোগানে খানিকটা পরিবর্তন এনে সেটিকে এমনভাবে দাঁড় করানো হয়েছিল, যাতে শ্লেষের দিকটা আরও স্পষ্ট হয়। এরা ছাড়াও দুজনের নাম আলাদা উল্লেখের দাবি রাখে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল। ‘তুমি কে, আমি কে/ রাজাকার, রাজাকার/ কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’ স্লোগানটা তাঁদের উপস্থিত বুদ্ধিতেই আন্দোলনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
অভিজ্ঞতার কারণে নিশ্চিত ছিলাম, ১৫ জুলাই অবশ্যই ছাত্রলীগ আন্দোলনে হামলা করবে। ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হই। দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আন্দোলনকারীরা সমবেত হলে সেখানে আমরাও আলাদাভাবে স্লোগান দিতে থাকি।
একটু পরে খবর আসে, হলে ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের আটকে রেখেছে। সমন্বয়কেরা সিদ্ধান্ত নেন, মিছিল নিয়ে গিয়ে তাদের মুক্ত করবেন। আমরাও মিছিলের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।