পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে মহাখালী আন্তঃজেলা টার্মিনালে আসছে। তবে বাসগুলোতে যাত্রীদের চাপ তেমন ছিল না।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাষ্য, এবার ঈদে টানা নয়দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আবার বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকে গড়ে চারদিন ছুটি পেয়েছেন। তারা আগামী শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থেকে ঢাকায় ফেরা শুরু করবেন। এরমধ্যে যাদের ছুটি আরও কম, তারা আজ থেকেই ঢাকায় আসছেন। তাদের যাতায়াতে যানজটসহ অন্য কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
গত সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। তবে গতকাল (১ এপ্রিল) পর্যন্ত মহাখালী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদেরই চাপ ছিল। আজ টার্মিনালটিতে ঘরমুখো মানুষের চেয়ে ঢাকায় ফেরার যাত্রী বেশি দেখা গেছে।
মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া রুটে যাত্রীরা যাতায়াত করেন।
বুধবার (২ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসে মহাখালী টার্মিনাল তথা ঢাকায় ফিরছেন লোকজন। অনেকে আবার পরিবার ছাড়াই ঢাকায় ফিরছেন। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ সদর থেকে ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টে ঢাকায় ফেরেন মেহেদী হাসান। তিনি কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাকরি করেন। আলাপকালে তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে চারদিনের ছুটি পেয়েছি। গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেছি। আনন্দ করেছি। আগামীকাল থেকে অফিস খোলা। তাই ঢাকা ফিরতে হয়েছে।
সকালে টাঙ্গাইল থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন বিনিময় বাসের চালক রুস্তম আলী। তিনি বলেন, এবার ঈদযাত্রায় সড়কে যানজট ছিল না। যাত্রী পরিবহন করে খুবই ভালো লাগছে। যাত্রীরাও সন্তুষ্ট। এখন ফেরার পথেও সড়কে যানজট নেই। আজ যারা ঢাকা ফিরেছেন, তাদের অধিকাংশ চাকরিজীবী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বা পরদিন শুক্রবার ঢাকা ফেরা যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে।
ঢাকা-হালুয়াঘাট-ঢাকা রুটে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করে শ্যামলী বাংলা। এ বাসে যাত্রীদের একজন শাহীন আহমেদ। তিনি ধানমন্ডির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শ্যামলী বাংলা পরিবহন থেকে নামেন মহাখালীর আমতলীতে।
ঈদ উদযাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহীন বলেন, অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির ছিল। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে এখন ঢাকায় ফিরছি। আগামীকাল সকাল থেকে কর্মস্থলে যোগ দেবো।
এমএমএ/এমএইচআর