চট্টগ্রামে পৌঁছে সংবর্ধিত হয়েছেন সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছান মেয়র। এরপর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান। এ শহর আমার একার নয়, আমাদের সবার। ৭০ লাখ মানুষের শহর। আমরা সবাই মিলে একযোগে শহরকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে চাই। একটা পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ শহর হবে ক্লিন সিটি, গ্রিন ও হেলদি। এ লক্ষ্যে আমি কাজ করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে সারা দেশে ৬০০-এর অধিক গুম হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে। অসংখ্য মানুষ মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এক লাখ মামলায় ৬০ লাখ আসামি করা হয়েছে। এত নির্যাতনের পরও একজন কর্মীও বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এটাই হচ্ছে বড় পাওয়া।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সকাল থেকে নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত হন। লোকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা।
সংবর্ধনা সভা শেষে ডা. শাহাদাত হোসেন হজরত আমানত শাহ (রা.) ও হজরত বদর শাহ (রা.) মাজারে গিয়ে জিয়ারত করেন। এরপর তিনি লালদীঘির পাড় সংলগ্ন চসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের সম্মেলন কক্ষে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এরপর তিনি বিকালে টাইগারপাসে চসিক ভবনে যাবেন। সেখানে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
গত রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডা. শাহাদাত হোসেনকে শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ।
এর আগে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের করা মামলায় গত ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল মোহাম্মদ খাইরুল আমীনের আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবকে গেজেট প্রকাশ করার জন্য নির্দেশ দেন।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওই নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী তিন লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পাওয়ায় নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুসারে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। এরপর ভোটে কারচুপির অভিযোগে মামলা করেন ডা. শাহাদাত।