৩.
পরিকল্পিত রিভার্স ব্রেন ড্রেইন একটা দেশে কি পরিমাণ পজিটিভ প্রভাব ফেলতে পারে, তার চমৎকার একটি উদাহরণ হতে পারে চীন। অনেকগুলো দেশের যৌথভাবে তৈরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে চীনের প্রবেশাধিকার ছিল না! ছিল না মানে, তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি! সেই চীনই এখন নিজস্ব মহাকাশ স্টেশনের মালিক, এবং তারা এই কাজটি করেছে সম্পূর্ণ একা! এটা কি ভাবা যায়? চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা। তবু তাদের অনেক গ্র্যাজুয়েট বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা ল্যাবগুলোয় ছড়িয়ে রয়েছে, জ্ঞান আহরণ করছে। প্রয়োজনে চীন সেই মেধাবীদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চালু করেছে ‘Thousand Talents Program (TTP)’ বা ‘Overseas High-Level Talent Recruitment Program!’ প্রযুক্তি স্থানান্তরের এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে? আমার মনে আছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। তার দাবি, চীন আমেরিকার প্রযুক্তি চুরি করছে। কীভাবে? ট্রাম্পের দেওয়া ব্যখ্যা মিথ্যা ছিল না! তবে আসল সত্য হলো, শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান এমন এক জিনিস, যা ইচ্ছা থাকলে অর্জন করা সম্ভব। বর্তমান বিশ্ব অনেক উন্মুক্ত। তবে সেই ইচ্ছা হতে হবে আন্তরিক। চীনের ক্ষেত্রেও তা–ই হয়েছে। বাস্তবতা হলো, চীনা গবেষক ছাড়া উন্নত দেশগুলোর অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল। এমনকি আমেরিকাতেও! চীনা বিজ্ঞানীরা নাসাতে কাজ করছে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানে আছে। মোটকথা, আমেরিকার সব প্রেস্টিজিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। আর তারা সেখানে গিয়েছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই। চীন যে কাজটি করছে, তা হলো এই মেধাবীদের ফিরিয়ে নিয়ে দেশে একই রকম পরিবেশ প্রদান করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, এই মেধা চীনের কাজে লাগছে। হ্যাঁ, চীন এ কাজটিই করছে এবং এর ফলও আসছে হাতেনাতে। আজ থেকে ৫০ বছর আগে চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের চেয়ে খারাপ ছিল! সেই চীন আজ শিক্ষা, গবেষণা এবং সামরিক সব দিক থেকেই দ্রুত বিশ্বের শীর্ষস্থান দখলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিবেশী ভারত কিছুটা এলোমেলো হলেও একই পথে হাঁটছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা ল্যাবগুলোয় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। আমার ধারণা, আগামী দশকের ভারত হবে অনেক বেশি শক্তিশালী। এর প্রধান কারণ তাদের খনিজ সম্পদ নয় বরং তাদের নীরব শিক্ষা বিপ্লব।
আমাদের দেশের জন্য কি এমন কোনো পরিকল্পনা আছে? আমরা কি ঠিক করতে পেরেছি ভবিষ্যতের বাংলাদেশে শিক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে? শিক্ষার উন্নতি ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই নয়। তাই আগামী নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হোক যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত বাংলাদেশ গড়া।
*লেখক: বদরুজ্জামান খোকন, পোস্টডক্টরাল রিসার্চার, ভাইরাল ভ্যাকসিন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ন্যাশনাল হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিটিউট, তাইওয়ান