আলী রীয়াজ: আমি এখানে বিশৃঙ্খলা শব্দটি বলতে চাই না, অনিশ্চয়তা বলতে পারি। রাজনীতি অনিশ্চয়তার ব্যাপার। এখানে দুটি সমাধান আছে। একটি হচ্ছে সংবিধান সংস্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার, বিচার বিভাগের সংস্কার, জনপ্রশাসনের সংস্কার; এগুলোর ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো যদি একমত হয় এবং তারা যদি একটি সনদ তৈরি করে, সেটি হবে জাতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি। এত প্রাণের বিনিময়ে মানুষের মধে৵ যে বিশাল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংগতিপূর্ণ আচরণ না করে, তাহলে তারও তো একটি জবাবদিহির জায়গা দরকার হবে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে, আমাদের অতীত ইতিহাসে ব্যর্থতা আছে, তার কারণে আমরা শঙ্কিত হই। শঙ্কিত হওয়াটা ঠিক আছে, সেটি ভালোও; কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, শঙ্কার জায়গাটা এখানে প্রধান নয়।
আমাদের জাতির সামনে অভাবনীয় একটি ঘটনা ঘটে গেছে। বাংলাদেশের মানুষই এই অসাধ্য সাধন করেছে। এটি কিন্তু একবার আমরা করিনি। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান, সময় বিবেচনায় কাছের ঘটনা। আমরা এর আগে একাত্তরে সেটি করেছি, নব্বইয়েও করেছি। আমরাই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মতো একধরনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি; যেটা কোথাও ছিল না। আমাদের বাস্তবতা থেকে আমরা সেই পথ বের করেছি।
রাজনীতিবিদদের আমরা সমালোচনা করব; কিন্তু তাঁরা অনেক কিছু করেছেন, সেই স্বীকৃতিটা তাঁদের আমাদের দিতে হবে। আমি অনিশ্চয়তা দেখতে পাই; কিন্তু আশাবাদীও হতে চাই একাধিক কারণে। প্রথমটি হলো, এটি ২০২৪-এর বাংলাদেশ, এটি ১৯৯০-এর বাংলাদেশ নয়। দ্বিতীয়টি হলো, আমাদের রাজনীতিবিদেরা যে পারেন, সেটি তারা অতীতে দেখিয়েছেন।