Homeজাতীয়২৯৩ খাদ্যগুদাম সংস্কারে ২৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প

২৯৩ খাদ্যগুদাম সংস্কারে ২৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প


কৃষকের ধান, চাল ও গমের ন্যায্যমূল্য দেওয়া এবং ভোক্তাদের যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের জরাজীর্ণ ২৯৩ খাদ্যগুদাম মেরামত ও সংস্কার করা উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে করে খাদ্যশস্যের অপচয় রোধের পাশাপাশি খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতাও বাড়বে।

খাদ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪৭ জেলার ১০৩টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গুদামগুলো মেরামত করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ২৫৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে অধিকাংশ খাদ্য সংরক্ষণাগার ও অন্যান্য স্থাপনা নব্বইয়ের দশকের আগে নির্মাণ করা। এসব খাদ্যগুদাম ও অন্যান্য স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা অনেক কমেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এর আগে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এলএসডি-সিএসডির অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যগুদাম, অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামোর মেরামত-সংস্কার হয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্প এলএসডি-সিএসডির অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে বাদ পড়েছে। ফলে বছরের পর বছর পড়ে থাকা জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম, ভবন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর মেরামত-সংস্কারকাজের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। পরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এরপর সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্যসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জনস্বার্থে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারি পর্যায়ে খাদ্য সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা বাড়বে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো সময়ে জনগণকে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় ২৫৫ কোটি টাকায় ৮ বিভাগের ১০৩টি উপজেলায় বিভিন্ন ধারণক্ষমতার ২৯৩টি খাদ্যগুদাম মেরামত ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা মেরামত ও সংস্কার (অফিস, সিকিউরিটি পোস্ট, স্টাফ কোয়ার্টার, ডরমিটরি, দারোয়ান শেড, পাবলিক টয়লেট) করা হবে এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, সীমানাপ্রাচীরসহ অন্যান্য অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কার করা হবে।

বর্তমানে খাদ্য বিভাগের অধীন ৬টি সাইলো, ১২টি সিএসডি, ৬৩৫টি এলএসডি রয়েছে। গুদামগুলোর মোট খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২২ লাখ ৮২ হাজার টন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২২ লাখের সক্ষমতার মধ্যে গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত সরকারের কাছে খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে ১৩ লাখ ১০ হাজার ৯৪০ টন। এর মধ্যে চাল মজুত রয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৫ টন; গম ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১৬২ টন এবং ধান মজুত রয়েছে ৪ হাজার ৮২১ টন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা অনুযায়ী, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের হিসাবে, নষ্ট হওয়া পণ্যের মোট ক্ষতির অঙ্ক ৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে গত ৫০ বছরের হিসাব যোগ করা হলে এই ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা। যা চলতি জিডিপির সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এখনই সরকার ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পণ্য উৎপাদনের সকল পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে অপচয় রোধ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লান্ট প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের খাদ্যপণ্য উৎপাদন অনেক হয়। কিন্তু তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই সর্বোচ ৫ শতাংশ নষ্ট হয়। এটা যদি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা যায়, তাহলে দেশের চাহিদা পূরণ করে অনেক পণ্য রপ্তানিও সম্ভব।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত