চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এলপিজিবাহী দুইটি জাহাজে গত ১৩ অক্টোবর রাতে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি রবিবার রাতে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে। রিপোর্টে এই দুর্ঘটনাকে জাহাজে সেসময়ে দায়িত্বরত ক্রুদের অবহেলা চিহ্নিত করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমডোর ফজলার রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি দুর্ঘটনার জন্য ৩টি কারণ চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি ১২টির বেশি সুপারিশ পেশ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৩ অক্টোবর বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত এলপিজিবাহী মাদার ট্যাঙ্কার তানজানিয়ার পতাকাবাহী ক্যাপ্টেন নিকোলাস থেকে দেশীয় অয়েল ট্যাঙ্কার (বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালনাধীন) সুফিয়াতে গ্যাস ট্রান্সফারের সময় বিস্ফোরণের পর দুইটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জাহাজ দুইটি রশি দিয়ে আড়াআড়িভাবে ছিল।
এ ঘটনায় মাদার ট্যাঙ্কার থেকে সরবরাহকৃত বেশিরভাগ পরিমাণ গ্যাস আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। যা পরদিন বিকালে পুরোপুরি আগুন নেভানো সম্ভব হয়।
ঘটনার জন্য তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।
প্রথমত- অদক্ষ জনবল, দ্বিতীয়ত- অপারেশনাল কার্যক্রমের ব্যর্থতা এবং তৃতীয়ত মুরিং (রশি) ফেলিউর।
প্রসঙ্গত, তানজানিয়ার পতাকাবাহী মাদার ট্যাঙ্কারে ৪২ হাজার টন এলপিজি ছিল। এরমধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার টন খালাসের কথা ছিল। কিন্তু ওই দুর্ঘটনায় ৩০ হাজার টনের বেশি এলপিজি আগুনে পুড়ে যায়।