Homeজাতীয়ঢাকামুখী মানুষের ভিড়

ঢাকামুখী মানুষের ভিড়


ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটির শেষ দিন ছিল গতকাল শনিবার। টানা ৯ দিন ছুটি শেষে আজ রোববার থেকে কর্মমুখর হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠান। তাই তো যে যেভাবে পেরেছে গতকাল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ফলে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল।

এদিন কোথাও কোথাও বাসভাড়া শতভাগ বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। উত্তরের দুটি ট্রেন গতকালও বিলম্ব ছেড়েছে। লঞ্চে উঠেছে অতিরিক্ত যাত্রী।

দূরপাল্লার বাসের জন্য বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। লোকাল বাসেও যাত্রীদের বেশ ভিড় ছিল। এ ছাড়া সড়কে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলেরও চাপ দেখা গেছে। গাড়িতে আসন খালি না পেয়ে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্নান ঘিরে লোক সমাগমের কারণে গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ময়মনসিংহ বাস টার্মিনালে আবু সাঈদ নামের এক যাত্রী বলেন, ‘যাব ঢাকা। লোকাল বাসে যেখানে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, আজ তারা ৪০০ টাকার কমে নেবে না। তাও আবার দাঁড়িয়ে যেতে হবে। সিট ফাঁকা নেই। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন মনিটরিং করলে শত শত যাত্রী হয়রানি থেকে মুক্তি পেত।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন বলেছেন, ‘আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত সারা দেশে কাজ করছে। বাসে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সারা দেশে থেকে উৎসবের আমেজ নিয়ে গতকাল কর্মস্থলে ফেরে মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল এলাকায় সকাল থেকে যাত্রী নিয়ে আসে দূরপাল্লার বাস। প্রতিটি বাস যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল। বরিশাল থেকে আসা ইলিশ পরিবহন থেকে ব্যাগ হাতে যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে নামছিলেন আব্দুল রাজ্জাক নামের এক যাত্রী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে। তাই আমার কর্মজীবনও শুরু। এ জন্য ঢাকায় চলে এসেছি।’

এবারের ঈদযাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পেরেছে। গতকাল প্রায় সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছেছে। যাত্রীরা স্বস্তিতে ট্রেনে কমলাপুর এসেছে। তবে উত্তরের দুটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।

শনিবার বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে এবং রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। আগের দিন শুক্রবার বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২ ঘণ্টা বিলম্বে এবং রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছিল।

ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। 	আজকের পত্রিকা ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। 	আজকের পত্রিকা ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। 	আজকের পত্রিকা ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। আজকের পত্রিকা ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। আজকের পত্রিকা ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। আজকের পত্রিকা ঈদ উদ্‌যাপন শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফিরতি যাত্রায় দেশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে উঠছে যাত্রীরা। তা ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ করেছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই ট্রেন দুটি ঢাকায় আসতে দেরি হয়েছে। ফলে কিছুটা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে।’

গতকাল ভোর থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়েছে বরিশাল অঞ্চলসহ বিভিন্ন রুটের লঞ্চ। প্রতিটি লঞ্চই ছিল যাত্রীবোঝাই। যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, ফিরতি যাত্রায় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী আনা হচ্ছে। তবে বিপত্তি দেখা দেয় সদরঘাট টার্মিনাল থেকে রাজধানীর ভেতরে ঢোকার সময়। হাজারো যাত্রী আর যত্রতত্র বাস ও গাড়ি রাখার কারণে সদরঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ওই এলাকা পার হতে লেগে যায় ঘণ্টারও বেশি সময়। উপায় না দেখে অনেকেই লাগেজ-ব্যাগ নিয়েই হেঁটে গুলিস্তানের দিকে রওনা হয়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গতকাল জানায়, এবার ঈদের ছুটির সাত দিনে ঢাকায় প্রবেশ করেছে ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ২৭৯ জন সিমধারী, অন্যদিকে ঢাকা ছেড়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ১৫৫ জন সিমধারী।

[এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন ময়মনসিংহ, শিবচর (মাদারীপুর), দুর্গাপুর, নেত্রকোনা, শ্যামপুর-কদমতলী (ঢাকা) প্রতিনিধি]





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত