ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। টানা ছুটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ছুটে এসেছেন কমলগঞ্জের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫শত ৩৩জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫লক্ষ ১২হাজার পঁচান্নব্বই টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
ঈদের দিন থেকে শুধু লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানেই নয়, উপজেলার মাধবপুর লেক, ক্যামেলীয়া লেক, শমসেরনগর গলফ্ মাঠ, হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়।
চট্রগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় পরিবার নিয়ে লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা সম্ভব হয়েছে।
সরজমিনে মাধবপুর লেক ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের বহনকারী গাড়ির দীর্ঘ সারি, টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল লম্বা লাইন, আবার অনেকে জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকে ছবি তুলায় ব্যস্ত। দেখা মেলে বিদেশী পর্যটকেরও।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে প্রচুর পর্যটক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পরিবার – পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। আগত পর্যটকদের যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য বনকর্মীদের পাশাপাশি সিপিজি’র সদস্য ট্যুরিস্ট গাউডরা রয়েছেন। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।
তিনি জানান, গত তিনদিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪ হাজার ৫শত ৩৩জন পর্যটক প্রবেশ করেন। পর্যটকদের প্রবেশ ফি থেকে ৫লক্ষ ১২হাজার পঁচান্নব্বই টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।