Homeজাতীয়গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে বাংলাদেশ: ইআইইউয়ের প্রতিবেদন

গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে বাংলাদেশ: ইআইইউয়ের প্রতিবেদন


এক বছরের ব্যবধানে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে বেশি অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ ২৫ ধাপ পিছিয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৪ সালের গণতন্ত্র সূচক অনুযায়ী, ১৬৫টি দেশ ও ২টি অঞ্চলের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে বিশ্বের আর কোনো দেশের গণতন্ত্রের সূচকে এতটা অবনমন হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে ইআইইউ এই সূচক প্রকাশ করেছে।

বিশ্বের গণতন্ত্রের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে বিশ্বের ১৬৫টি স্বাধীন দেশ এবং ২টি অঞ্চল নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে ইআইইউ। পাঁচটি বিষয় বিবেচনায় সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। এসব বিষয় হচ্ছে—নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা। প্রতিটি বিষয়ের স্কোর ১০। এই স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোর শাসনব্যবস্থাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা।

অবশ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে বৈশ্বিক গণতন্ত্রের গড় সূচকের ক্রমাবনতি ঘটছে। বিশেষ করে কোভিড মহামারির সময় থেকে এই অবনমন ত্বরান্বিত হয়েছে।

২০২৩ সালের ইআইইউর গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫তম। ২০২২ সালে তা ছিল ৭৩তম। অর্থাৎ ২০২৩ সালে আগের বছরের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২৪ সালে এক লাফে ২৫ ধাপ পিছিয়ে ১০০–এ নেমে গেছে।

ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে স্কোর সবচেয়ে বেশি কমেছে বাংলাদেশের। এবার বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৪ দশমিক ৪৪। ২০২৩ সালের তুলনায় স্কোর কমেছে ১ দশমিক ৪৪। এর আগের বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৮৭।

একই স্কোর নিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনও ১০০তম অবস্থানে রয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে দেশটির অবস্থান নেমেছে তিন ধাপ আর বাংলাদেশের নেমেছে ২৫ ধাপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের মতো গত বছরও বাংলাদেশ ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থায়’ থাকলেও এবার তা একেবারে নিচের দিকে নেমে গেছে। যে কোনো সময় কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

এবার পাঁচটি ক্যাটাগরির মধ্যে ‘সরকারের কার্যকারিতা’ (২ দশমিক ৫৭) ও ‘নাগরিক স্বাধীনতা’ (৩ দশমিক ৫৩)—এ দুই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম স্কোর করেছে। তবে ১০-এর মধ্যে ৬ দশমিক শূন্য ৮ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে ভালো করেছে ‘নির্বাচনপ্রক্রিয়া’ ও ‘বহুত্ববাদ’ ক্যাটাগরিতে। ‘রাজনৈতিক অংশগ্রহণ’ ও ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ উভয় ক্যাটাগরিতে স্কোর পেয়েছে ৫। ২০২৩ সালে সবচেয়ে কম স্কোর করেছিল ‘নাগরিক স্বাধীনতা’ (৪ দশমিক ৭১) ও ‘রাজনৈতিক অংশগ্রহণ’ (৫ দশমিক ৫৬)। সবচেয়ে বেশি স্কোর করেছিল নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদে (৭ দশমিক ৪২)।

এ ছাড়া ২০০৬ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধরন ছিল ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে। এরপর ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্র টানা ‘হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার’ তকমা পেয়ে আসছে।

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বলতে ইআইইউ বোঝায়, এমন ব্যবস্থা যেখানে প্রায়ই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এ শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের ওপর সরকারের চাপ থাকে। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয়। সাংবাদিকদের চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করা হয়। দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার, দুর্বল আইনের শাসন, দুর্বল নাগরিক সমাজ এমন শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

আগের বছরের মতো ২০২৪ সালেও গণতন্ত্র সূচকে সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৮১ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও সুইডেন। ২০২৩ সালে আইসল্যান্ড তৃতীয় স্থানে থাকলেও এবার দেশটি চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে।

আগের বছরের মতো ২০২৪ সালেও গণতন্ত্র সূচকে তলানিতে (১৬৭ তম) আফগানিস্তান। দেশটির স্কোর শূন্য দশমিক ২৫। ২০২৩ সালে তা ছিল দশমিক ২৬। ২০২৩ সালের মতো এবারও আফগানিস্তানের ওপরের দুই অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিয়ানমার (১৬৬ তম) ও উত্তর কোরিয়া (১৬৫তম)।

এবারের তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান এক ধাপ এগিয়ে ১৭–তে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে ২৮–এ উঠেছে। তবে দেশটির গণতন্ত্র ‘ত্রুটিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা’র অন্তর্ভুক্ত।

কর্তৃত্ববাদী ক্যাটাগরিতে থাকা চীনের অবস্থান এবার তিন ধাপ এগিয়েছে, দেশটির অবস্থান ১৪৫। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউয়ের সঙ্গে এবার যৌথভাবে ১৫০ তম অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। গতবার রাশিয়া ছিল ১৪৪তম।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ভারত। দেশটির অবস্থান ৪১তম, ২০২৩ সালেও একই ছিল। এরপর রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা (৬৭তম), ভুটান (৭৯তম), নেপাল (৯৬তম), পাকিস্তান (১২৪তম)।

এশিয়ায় গণতন্ত্র সূচকে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে যেসব দেশ বেশি খারাপ করেছে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান অন্যতম। আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে দেশটির অবস্থান ছয় ধাপ পিছিয়েছে। তবে এই অঞ্চলে ২০২৩ সালের তুলনায় ১০ ধাপ পিছিয়ে ২০২৪ সালে ৩২তম অবস্থানে নেমে গেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ইআইইউ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১৬৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ২৫টিতে পূর্ণ গণতন্ত্র ছিল। ৪৬টির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। বাংলাদেশসহ ৩৬টি দেশ ও অঞ্চলে হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। আর সবচেয়ে বেশি ৬০টিতে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ছিল।

ইআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে চাপে রয়েছে। গণ–অভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারা শাসনভার গ্রহণ করে। তবে নির্বাচন দেওয়ার আগে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করতে চায় তারা। ফলে নির্বাচন আয়োজন ২০২৫ সালের পরেও চলে যেতে পারে।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত