লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে বড় এক ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের দল ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে বসেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে প্রথমার্ধে—বক্সে এমবাপ্পে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু অবাক করার মতো সিদ্ধান্তে, স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আর সেখানেই ঘটে বিপর্যয়। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নেওয়া দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক মামারদাশভিলি। পুরো বার্নাব্যু তখন স্তব্ধ—মাঠে থাকা ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা এমবাপ্পেকে কেন পেনাল্টি নিতে দেওয়া হয়নি?
পেনাল্টি মিসের কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে এগিয়ে যায় ভ্যালেন্সিয়া। ডিফেন্ডার মুক্তার ডিয়াখাবি কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল পাঠান জালে। যদিও তার আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে রিয়াল একবার সমতায় ফিরতে পারত, তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) মাধ্যমে দেখা যায়, গোলের আগে অফসাইড অবস্থানে ছিলেন এমবাপ্পে।
বিরতির পর অবশ্য রিয়াল ঘুরে দাঁড়ায়। জুড বেলিংহামের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে গোল করে ভুল একপ্রকার পুষিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালায় লস ব্লাঙ্কোসরা—একবার অল্পের জন্য মিস করেন এমবাপ্পে, আবার দুর্দান্ত এক শট ঠেকান মামারদাশভিলি, যিনি রীতিমতো দেয়াল হয়ে দাঁড়ান রিয়ালের সামনে।
কিন্তু বার্নাব্যুর দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে হেডে গোল করে ভ্যালেন্সিয়াকে জয় এনে দেন হুগো দুরো।
এই হারের ফলে শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল। পয়েন্ট হারানোর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনা এগিয়ে যেতে পারে লা লিগা টেবিলে। ম্যাচ শেষে ভক্তরা যেমন হতাশ, তেমনি ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—মাঠে থাকার পরও কেন পেনাল্টি শট থেকে দূরে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে?
বার্নাব্যুতে এমন এক রাতে, যেখানে জয় খুব দরকার ছিল রিয়ালের, সেখানেই ভিনিসিয়ুসের ব্যর্থতা আর এমবাপ্পেকে নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা হয়তো শিরোপার দৌড় থেকে পিছিয়ে দিল লস ব্লাঙ্কোসদের।