বায়ার্ন মিউনিখের কানাডিয়ান ফুলব্যাক আলফোনসো ডেভিসকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন তুমুল আলোড়ন। কানাডার হয়ে খেলতে গিয়ে ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে চলে গেছেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ডিফেন্ডার। তবে চোটের চেয়েও বড় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে কানাডা সকারের দায়িত্বহীন আচরণ!
জার্মান জায়ান্টরা এ কারণে এখন আইনি পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা করছে, কারণ তাদের দাবি—একজন আহত খেলোয়াড়কে যথাযথ মেডিকেল পরীক্ষার আগেই দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার ফ্লাইটে পাঠানো সম্পূর্ণ অবহেলার পরিচয়।
কানাডা বনাম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়েন ডেভিস। তখন বলা হয়েছিল, এটি গুরুতর কিছু নয়। কিন্তু মিউনিখে ফেরার পরই ধরা পড়ে ভয়ংকর বাস্তবতা—ডান হাঁটুর এসিএল ছিঁড়ে গেছে তার, যা অন্তত ৬-৮ মাসের জন্য মাঠের বাইরে রাখবে এই তারকাকে।
বায়ার্ন মিউনিখের সিইও জান-ক্রিশ্চিয়ান ড্রেসেন সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন কানাডা সকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘একজন আহত খেলোয়াড়কে দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানো চরম অবহেলা ও মেডিকেল দায়িত্বের চরম লঙ্ঘন।’
তিনি আরও অভিযোগ তুলে বলেন, ‘একটি অর্থহীন ম্যাচে এমন একজন খেলোয়াড়কে নামানো, যার আগেই মাংসপেশির ব্যথা ছিল—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না!’
তবে ডেভিসকে দোষারোপ করতে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, ‘ডেভিস কোনো ভুল করেনি, সে দলের অধিনায়ক, নেতৃত্ব দিতে চেয়েছে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করা দল হিসেবে কানাডা কোনো ঝুঁকি নিতেই পারত না।’
ডেভিসের এজেন্ট নেদাল হুসেহও কানাডার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন, দাবি করেছেন, ‘ডেভিসকে একদমই খেলানো উচিত হয়নি।’
অন্যদিকে, কানাডা সকার এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে, ‘আমাদের মেডিকেল টিম ও কোচিং স্টাফ সর্বদা খেলোয়াড়দের সুস্থতাকেই প্রধান গুরুত্ব দেয়। যে কোনো ভিন্ন তথ্য একেবারেই ভিত্তিহীন।’
ডেভিসের এই চোট শুধু বায়ার্ন নয়, কানাডা জাতীয় দলকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বায়ার্ন কি সত্যিই আইনি লড়াইয়ে যাবে? ফুটবলবিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকে!