Homeঅর্থনীতিপ্রবাসীদের বন্ডে যত খুশি তত বিনিয়োগ, উঠে গেল সীমা

প্রবাসীদের বন্ডে যত খুশি তত বিনিয়োগ, উঠে গেল সীমা


প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগসীমা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ, প্রবাসীরা যত খুশি তত এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ আজ রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনটি উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেগুলো হলো—প্রবাসী পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের অর্থ দেশে বিনিয়োগ করা, বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম করা এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) অন্তর্মুখী প্রবাহ বৃদ্ধি করা।

সৈয়দ এ মু’মেন বলেন, এর ফলে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী আরও বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথভাবে বাংলাদেশে আনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন বলে মনে করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

দেশে ১৯৮১ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড চালু করা হয়। মুনাফা পাওয়া যায় সরল সুদে। ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড বিধি ১৯৮১ (সংশোধিত ২৩ মে ২০১৫) অনুযায়ী, যেকোনো পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। কোভিড-১৯ এর প্রকোপ চলাকালে ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আইআরডি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের সমন্বিত বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করে এক কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

এরপর ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের ঊর্ধ্বসীমা উঠিয়ে নেওয়া হয়। ফলে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগ এ দুই বন্ডে আসছে। তবে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের বিনিয়োগসীমা প্রত্যাহার করা হয়নি। আবার এ বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগের সুযোগও নেই। ফলে আগে বিনিয়োগ করা অর্থ প্রবাসীরা উঠিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন।

এই অবস্থায় গত সেপ্টেম্বরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে চিঠি পাঠায়। এরপরই এই উদ্যোগ নিল সরকার।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবাসী বা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মতো ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগ সুবিধা আরও যৌক্তিক করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি মালিকানাধীন শিপিং বা এয়ার ওয়েজ কোম্পানির বিদেশি অফিসে চাকুরি করা অনিবাসী বাংলাদেশী মেরিনার, পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ওয়েজ আর্নার বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, পেনশনারদের সুবিধার জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৩ মাস অন্তর (ত্রৈমাসিক) মুনাফার পরিবর্তে প্রতি মাসে মুনাফা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কীমে’র আওতাধীন পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের ক্ষেত্রে মূল বিনিয়োগ করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ করা যাবে। অন্যদিকে, পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক—মেয়াদী হিসাবের ক্ষেত্রে মুনাফাসহ মূল বিনিয়োগের অর্থও পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে একবার আনা রেমিট্যান্সের অর্থ এক মেয়াদে বিনিয়োগ এবং আরও দুই মেয়াদে পুনঃবিনিয়োগ, অর্থাৎ তিন মেয়াদে মোট ১৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করা যাবে। ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দেশে আনা রেমিট্যান্সের অর্থ একবার বিনিয়োগ এবং আরও চারবার পুনঃবিনিয়োগ, অর্থাৎ পরপর সর্বোচ্চ পাঁচ মেয়াদে মোট ১৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করা যাবে।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত