Homeঅর্থনীতিট্রাম্পের শুল্কের পর মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও ৫ ট্রিলিয়ন ডলার

ট্রাম্পের শুল্কের পর মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে উধাও ৫ ট্রিলিয়ন ডলার


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় ৭০টির মতো দেশের ওপর রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমেরিকান পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চীন পাল্টা আঘাত হেনেছে। চীনের ঘোষণার পর স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। মাত্র দুই দিনে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৫ লাখ কোটি ডলার উধাও হয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনা এমন এক বাণিজ্য যুদ্ধকে উসকে দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং আসন্ন মন্দার ভয়কে বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন শেয়ারবাজার ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ, এসঅ্যান্ডপি-৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট—এই তিন সূচক ২০২০ সালের তাদের সবচেয়ে বড় পতন দেখেছে।

এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক দিনের শেষে ৬ শতাংশ এবং গত দুই দিনে ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে মাত্র দুই দিনে সূচকটির বাজার মূলধন ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে ডাউ সূচক ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী মন্দার আশঙ্কাকে উসকে দিয়েছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার উধাও করে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ককে প্রতিফলিত করে শেয়ারবাজারের অনাস্থা ও ‘ভীতি সূচক’ সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে লেনদেন শেষ করেছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যানের অনুমান, বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় প্রবেশ করার আশঙ্কা ৬০ শতাংশ, যা আগে ৪০ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল। লন্ডনের ট্র্যাডিশন সংস্থার মার্কেট অ্যান্ড ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টেফান ইকোল বলেছেন, ‘এটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখানেই এর শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর এ কারণেই বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।’

শুক্রবার ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। এই প্রতিক্রিয়া একটি বৈশ্বিক মন্দা এড়ানো সম্ভব—বিনিয়োগকারীদের এই বিশ্বাসকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। ইউবিএস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারিয়াম অ্যাডামস যেকোনো সময় বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু আশঙ্কা করেছেন।

ইন্টারেকটিভ ব্রোকারসের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ সোসনিক বলেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি কতটা খারাপ হবে তা নির্ভর করছে (ট্রাম্প) প্রশাসন এই নীতিগুলোর প্রতি কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তার ওপর, যেগুলোর বিরুদ্ধে বাজার স্পষ্টভাবে অবস্থান নিয়েছে।’

এদিকে, বাজারে যখন চাপ বাড়ছিল তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর গলফ কোর্সে গলফ খেলছিলেন। সেখান থেকে তিনি মার্কিন অর্থনীতির বিজয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক চ্যালেঞ্জিং বার্তা পোস্ট করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যেসব বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন, (তাদের বলছি) আমার নীতি কখনো পরিবর্তন হবে না। এখন ধনী হওয়ার, আগের চেয়েও বেশি ধনী হওয়ার দারুণ সময়!!!’

বেইজিংয়ের পদক্ষেপের পর তিনি পোস্ট করেন, ‘চীন ভুল চাল চেলেছে, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে—এটা তারা হতে দিতে পারে না!’

ট্রাম্পের টিম বাজারের এই অস্থিরতাকে একটি সামঞ্জস্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উপকারী প্রমাণিত হবে বলে তারা মনে করছে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল শুক্রবার এক সম্মেলনে ব্যবসায়িক সাংবাদিকদের বলেন, এই শুল্ক ‘প্রত্যাশার চেয়ে বড়’ এবং এগুলো উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ধীর প্রবৃদ্ধি—উভয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।





Source link

এই বিষয়ের আরো সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img

এই বিষয়ে সর্বাধিক পঠিত