নির্বাচনি উত্তাপ তুঙ্গে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী — ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন কিছু সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা যায়, যেগুলো তুলে ধরে নির্বাচনের বিভিন্ন জটিল দিক। এগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। এসব উপাদানই যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
দুই
নির্বাচনের মূল লড়াই মূলত দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে। কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যেই হবে মূল লড়াই। যদিও কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এই দুই প্রধান প্রার্থীই নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
পাঁচ
নির্বাচন দিবস — ৫ নভেম্বর। এই দিনেই মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যা নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবারে পড়েছে।
সাত
‘সুইং স্টেট’ — যেগুলো সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে থাকে না, বরং এই নির্বাচনে যেকোনও দিকে যেতে পারে। কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রচারণায় এই সাতটি অঙ্গরাজ্যে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছেন। এই রাজ্যগুলো হলো: অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন। এখানে কয়েকটি ভোটের ব্যবধানই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।
৩৪ ও ৪৩৫
৫ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়াও কংগ্রেসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নির্ধারিত হবে। ৩৪টি সিনেট আসন এবং ৪৩৫টি প্রতিনিধি আসনও এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে রিপাবলিকানরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ডেমোক্র্যাটরা এ আসনগুলোতে অধিক শক্তি বাড়ানোর আশা করছে।
সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৪টি এইবারের নির্বাচনে পরিবর্তিত হতে পারে। রিপাবলিকানরা সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
৫৩৮
এটি হলো ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোট সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রত্যক্ষভাবে জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হন না।
প্রত্যেক রাজ্যে নির্দিষ্টসংখ্যক ইলেক্টর রয়েছে যা কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা, জনসংখ্যা ও সিনেটরের সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয়। যেমন, ক্যালিফোর্নিয়ার আছে ৫৪টি ইলেক্টোরাল ভোট, কিন্তু ছোট রাজ্য ভার্মন্টের রয়েছে মাত্র ৩টি।
প্রেসিডেন্ট হতে হলে প্রার্থীকে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে ২৭০টি ভোট পেতে হয়।
৭ লাখ ৭৪ হাজার
২০২০ সালের নির্বাচনে ৭ লাখ ৭৪ হাজার নির্বাচনকর্মী ভোটপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিন ধরনের নির্বাচনকর্মী রয়েছেন — পোল ওয়ার্কার, নির্বাচন কর্মকর্তা ও পোল ওয়াচার।
পোল ওয়ার্কাররা প্রধানত ভোটারদের অভ্যর্থনা, পরিচয় যাচাই এবং ভোটিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ করে থাকেন। নির্বাচন কর্মকর্তারা বিশেষায়িত দায়িত্বে নিয়োজিত, যেমন পোল ওয়ার্কারদের প্রশিক্ষণ প্রদান।
অন্যদিকে, পোল ওয়াচাররা ভোট গণনার ওপর নজর রাখেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের এই নির্বাচনে ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রত্যাখ্যানের পর তাদের কাজের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
৭ কোটি ৫০ লাখ
৫ নভেম্বরের ভোটের আগে ৭ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি আমেরিকান ইতোমধ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন। বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যই নির্বাচনের দিনজনিত জটিলতা এড়াতে ভোটারদের আগাম ভোট প্রদান বা ডাকযোগে ভোট প্রদানের সুযোগ দিয়েছে।
২৪ কোটি ৪০ লাখ
এই নির্বাচনে ভোটদানে যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা। কিন্তু বাস্তবে কতজন ভোট দেবেন তা বলা মুশকিল। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ আমেরিকান ভোট দিয়েছিলেন, যা শতকরা ৬৬ শতাংশ ভোটারদের সমান। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।